আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অন্তরায়
নিজস্ব প্রতিনিধি : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অধিকাংশ এলাকায় আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নতুন ও বড় ধরনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকার রাখাইনে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিলেও এখনো নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছরেও প্রত্যাবাসনের কার্যকর কোনো অগ্রগতি নেই। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন দেড় মিলিয়নের বেশী।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার পরিচয় যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে। দেশটির তথ্যমতে, বাংলাদেশের দেওয়া তালিকা থেকে কয়েক লাখ ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করা হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার ব্যক্তিকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয় বলেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় সংকট এখন রাখাইনের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের ফলে রাজ্যটির বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের নিজ গ্রাম ও বসতভিটায় ফেরানোর ক্ষেত্রে শুধু মিয়ানমার সরকারের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। চলতি বছরের জুনে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক সংকট সমাধান অনেকাংশে রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার।
মন্তব্য (০)