ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের ছবি ছাড়াই বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে হাইআতুল উলয়া

ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের ছবি ছাড়াই বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে হাইআতুল উলয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি : দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পরীক্ষার নিবন্ধনে এবারই প্রথমবারের মতো ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের ছবি গ্রহণের পরিবর্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। নিয়মিত নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র দুই দিন আগেই ইতোমধ্যে দশ হাজারের বেশি ছাত্রী পরীক্ষার্থী নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অফিস ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ অছিউর রহমান।

আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির ৬৮তম সভায় গত ৪ জুলাই ২০২৬ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, চলতি ১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সনের দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার নিবন্ধনের সময় ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল, নিরাপদ ও আধুনিক করার পাশাপাশি ছাত্রীদের পর্দা ও গোপনীয়তা রক্ষার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এত দিন প্রতিষ্ঠানের অধীনে অনুষ্ঠিত দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার নিবন্ধনে ভুয়া পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে ছাত্র পরীক্ষার্থীদের ছবি গ্রহণ করা হলেও পর্দার বিষয়টি বিবেচনায় ছাত্রীদের ক্ষেত্রে কখনো ছবি নেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা বোর্ড ছাত্রীদের নিবন্ধনে এ ধরনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের উদ্যোগ নেয়নি, ফলে এটিই দেশে এ ক্ষেত্রে প্রথম উদাহরণ।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ডিভাইস হিসেবে ZKTeco SLK20R Biometric Fingerprint Scanner ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, IP Based বা Standalone ডিভাইসের পরিবর্তে USB Fingerprint Reader বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সহজ ব্যবহার, তুলনামূলক কম কারিগরি জটিলতা, বহনযোগ্যতা, অতিরিক্ত অবকাঠামোর প্রয়োজন না থাকা এবং HEMS সফটওয়্যারের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে, কারণ ইউএসবি ডিভাইস কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করে ব্যবহার করা যায় এবং আলাদা আইপি অ্যাড্রেস বা নেটওয়ার্ক কনফিগারেশনের প্রয়োজন হয় না। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ডিভাইস নির্বাচনের সময় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি HEMS সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন, এসডিকে ও ড্রাইভার সাপোর্ট, সেন্সরের কার্যকারিতা, ব্যবহারযোগ্যতা, নির্ভরযোগ্যতা, স্থানীয় বাজারে প্রাপ্যতা এবং ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিতে এই মডেলটি নির্ধারণ করা হয়।

তবে চীন থেকে আমদানি করা এই ডিভাইসের মজুত শুরু থেকেই সীমিত ছিল এবং বর্তমানে তা শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ডিভাইসটি সহজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কয়েকটি মাদরাসা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, ডিভাইস সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোকান, ব্যবসায়ী বা বিক্রেতাকে নির্ধারণ করা হয়নি; একই সময়ে দেশের বিপুলসংখ্যক মহিলা মাদরাসার জন্য ডিভাইস সংগ্রহের প্রয়োজন তৈরি হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সাময়িকভাবে প্রাপ্যতা কমে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি এ-ও জানিয়েছে, বাজারে অন্য ব্র্যান্ডের ইউএসবি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস পাওয়া গেলেও সেগুলোর ড্রাইভার, এসডিকে, সেন্সর প্রযুক্তি এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রসেসিং ও ম্যাচিং পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে, যার ফলে HEMS-এর সঙ্গে পরীক্ষিত ও সমন্বিত ডিভাইসের বদলে অন্য মডেল ব্যবহার করলে সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন ও ডাটা সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে কারিগরি জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ কারণে মাদরাসাগুলোকে নিজ উদ্যোগে অন্য কোনো মডেল বা ব্র্যান্ডের ডিভাইস না কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিভাইস সংকট মোকাবিলায় আল-হাইআতুল উলয়া পারস্পরিক সহযোগিতার একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। যেসব মহিলা মাদরাসা ইতোমধ্যে নির্ধারিত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস সংগ্রহ করেছে, তাদের তালিকা সব মহিলা মাদরাসার এডমিনদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে ডিভাইস সংগ্রহ করতে না পারা মাদরাসাগুলো নিকটবর্তী বা একই জেলার ডিভাইসধারী মাদরাসার সহযোগিতায় নিজেদের ছাত্রী পরীক্ষার্থীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রতি জেলায় ডিভাইস সংগ্রহকারী মাদরাসাগুলোর তালিকাও এডমিনদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, নিয়মিত নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি রয়েছে এবং এরপর বর্ধিত নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত দশ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ডিভাইস সংগ্রহকারী মাদরাসাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণ ও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে নতুন এই ব্যবস্থার কারণে নিবন্ধন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন