হযরত আদম আ. এর পবিত্র জীবনী
।। মাওলানা হোসাইন আদনান ।।
হযরত আদম (আ.) হলেন মানবজাতির আদি পিতা এবং আল্লাহর মনোনীত প্রথম নবী।
সৃষ্টি ও মর্যাদা :
- আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি সংগ্রহ করে নিজ হাতে হযরত আদম (আ.)-এর অবয়ব তৈরি করেন।
- মাটির দেহ শুষ্ক হওয়ার পর তাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে রূহ বা প্রাণ ফুঁকে দেওয়া হয়।
- আল্লাহ আদম (আ.)-কে সব কিছুর নাম ও বিশেষ জ্ঞান শিক্ষা দেন এবং ফেরেশতাদের তাকে সিজদা করার নির্দেশ দেন।
- ইবলিস (শয়তান) অহংকারবশত সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানায়, ফলে তাকে আল্লাহর দরবার থেকে বিতাড়িত করা হয়।
- এরপর আদম (আ.)-এর বাম পাজরের হাড় থেকে তাঁর স্ত্রী হযরত হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়।
জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আগমন
- আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে জান্নাতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং একটি নির্দিষ্ট গাছের ফল খেতে নিষেধ করা হয়।
- শয়তানের প্ররোচনায় তাঁরা নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে ফেলেন।
- ভুল বুঝতে পেরে তাঁরা আল্লাহর কাছে তওবা করেন এবং আল্লাহ তাঁদের তওবা কবুল করেন।
- এরপর পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাঁদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক বর্ণনামতে, তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে (যেমন সিংহল বা উপমহাদেশে) অবতরণ করেন।
পৃথিবীতে জীবন ও বংশবিস্তার
- পৃথিবীতে এসে তাঁরা জীবনযাপনের জন্য চাষাবাদ, ঘরবাড়ি নির্মাণ ও জীবিকা নির্বাহের প্রক্রিয়া শিখেন।
- হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর ঘরে একাধিক জমজ সন্তান জন্ম নেয় (হাবিল ও কাবিল সহ)।
- সন্তানদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি ও মানব ইতিহাসের প্রথম হত্যার ঘটনা (হাবিল ও কাবিলের ঘটনা) তাঁরা প্রত্যক্ষ করেন।
- তিনি তাঁর বংশধরদের আল্লাহর ইবাদত, সত্যবাদিতা ও নৈতিকতা শিক্ষা দেন। দীর্ঘ বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি জীবদ্দশায় বহু বংশধর দেখে গেছেন।
মন্তব্য (০)