"আরবী ভাষা শিক্ষায় মাদরাসার চেয়ে ব্যক্তির ভূমিকা বেশি" শিরোনামে বারিধারায় প্রাণবন্ত আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

"আরবী ভাষা শিক্ষায় মাদরাসার চেয়ে ব্যক্তির ভূমিকা বেশি" শিরোনামে বারিধারায় প্রাণবন্ত আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার আদব বিভাগের উদ্যোগে প্রাণবন্ত আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জামিয়ার প্রাঙ্গণে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। "আরবী ভাষা শিক্ষায় মাদরাসার চেয়ে ব্যক্তির ভূমিকা বেশি"—বিষয়কে কেন্দ্র করে আদব বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় যুক্তি-তর্কে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের সাবলীল আরবি ভাষাজ্ঞান, যুক্তি উপস্থাপন ও বাচনভঙ্গি উপস্থিতদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

আদব বিভাগের উস্তাদ মাওলানা আব্দুল কাদের জিলানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিয়ার মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। বিতর্ক পরিচালনা ও মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন তিন সদস্যের বিচারকমণ্ডলী—মক্কা চক্ষু হাসপাতালের মহাপরিচালক ও
আরব মেহমান শায়খ নূরুদ্দীন সুদানী, আদব বিভাগের মুশরিফ মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমী এবং আরবি ভাষা বিভাগের উস্তাদ মাওলানা আব্দুল্লাহ সেলিম। সহযোগী বিচারক হিসেবে ছিলেন মাওলানা কাউছার আহমদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুদানের প্রখ্যাত আরবি ভাষাবিদ ও অষ্ট্রেলিয়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের বাংলাদেশ।আঞ্চলিক শাখার মহাপরিচালক ড. কামাল আল-খলিফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার শিক্ষাসচিব ও শাইখুল হাদিস মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ কাসেমী, নায়েবে মুহতামিম মাওলানা মাসউদ আহমদ, মুঈনে মুহতামিম মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি আমজাদ হোসাইন হেলালী, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুহাম্মাদ খান, মাওলানা এইচ এম আবু সালেহ, মুফতি আল-আমীন কাসেমী, মাওলানা রফিউদ্দিন কাসেমী ও জামিয়ার অন্যান্য আসাতিজায়ে কেরাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন জামিয়ার আদব বিভাগের মুশরিফ মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমী।

শিক্ষার্থীদের ভাষাজ্ঞান ও যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতার প্রশংসা করে বিচারক শায়খ নূরুদ্দীন সুদানী বলেন, তাদের যুক্তির গভীরতা ও আরবি ভাষার ওপর দখল দেখে বোঝা যায়, তারা আরবি ভাষার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে উঠছে।

বিশেষ মেহমান ড. কামাল আল-খলিফা শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, “তোমরাই আরবি ভাষাকে জীবিত রেখেছ।”

জামিয়ার মুহতামিম মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীও শিক্ষার্থীদের ভাষানৈপুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমি এমনই একটি আরবিময় পরিবেশের প্রত্যাশা করছিলাম এই জামিয়ায়।”

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার আরবি ভাষা বিভাগ (আদব বিভাগ) দীর্ঘদিন ধরে আরবি ভাষাকেন্দ্রিক সৃজনশীল ও মানসম্মত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে দেশ-বিদেশের আরবি ভাষাপ্রেমীদের কাছে বিভাগটি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। ধারাবাহিক এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষায় সাবলীলতা, আত্মবিশ্বাস ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।

প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ আয়োজনে বিজয়ী হয় "আরবী ভাষা শিখার ক্ষেত্রে মাদরাসার চেয়ে ব্যক্তির ভূমিকা বেশি" বিষয়ের বিপক্ষ দল। বিচারকমণ্ডলীর মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ বিজয়ী দল ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও আগত মেহমানদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশ, আরবি ভাষায় সাবলীলতা অর্জন এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

মাদানী/এমডব্লিউ

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন