“শুধু বিল্ডিং, ক্লাসরুম কিংবা ঘর থাকলেই মাদরাসা হয় না, মাদরাসার প্রাণ হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।”

“শুধু বিল্ডিং, ক্লাসরুম কিংবা ঘর থাকলেই মাদরাসা হয় না, মাদরাসার প্রাণ হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।”

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ঢাকা: ‘শুধু বিল্ডিং, ক্লাসরুম কিংবা ঘর থাকলেই মাদরাসা হয় না। মাদরাসার প্রাণ হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।’—রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় অনুষ্ঠিত আরবী বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন জামিয়ার মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।

গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার আল কাসিম মিলনায়তনে এ আরবী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাপনী বক্তব্যের শুরুতে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও হামদ-ছানা আদায় করে অনুষ্ঠানে আগত আরব মেহমানদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তাঁদের আগমনে জামিয়ার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আনন্দিত ও গর্বিত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরব মেহমানদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরবী ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় আরও বেশি উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবে।

এ সময় তিনি জামিয়ার আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আদব বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মুহতামিমে জামিয়া বলেন, “তোমরা যখন মাদরাসার আদব বিভাগে ভর্তি হয়েছিলে, তখন তোমরা নাহু-সরফ জানতে। কিন্তু আরবী ভাষায় কথা বলা কিংবা আরবীতে বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতা তখন তোমাদের ছিল না। অথচ আজ তোমরাই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছ, যার মাধ্যমে তোমাদের ছোট ভাইয়েরাও আরবী ভাষা শেখার সুযোগ পাচ্ছে।”

শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক চর্চার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “তোমাদের ভাইয়েরা আগে ‘نعم’ ও ‘بلى’-এর পার্থক্য জানত না। কিন্তু তোমাদের পরিবেশে থেকে তারা তা শিখে গেছে। তোমরা যখন বলেছ ‘ليس كذلك’, তখন তারা এর জবাবে ‘بلى’ বলেছে। এভাবেই তোমাদের তৈরি করা পরিবেশ থেকে তারা আরবী ভাষা শিখছে।”

আদব বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “মাত্র চার মাসের মধ্যে তোমরা যেভাবে সুন্দরভাবে আরবী বক্তব্য উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছ, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এজন্য তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়া মাদরাসা কল্পনা করা যায় না

বিতর্কের বিষয়—‘আরবী ভাষা শেখার ক্ষেত্রে মাদরাসা থেকে ব্যক্তির ভূমিকা বেশি’—প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী মাদরাসা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সম্পর্ককে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি বলেন, “মানুষের কোনো অঙ্গ—হাত, পা, চোখ কিংবা অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে তা সুস্থ করা সম্ভব। কিন্তু যদি মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন সে আর মানুষ থাকে না। ঠিক তেমনি মাদরাসা থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে পৃথক করে মাদরাসার কথা কল্পনা করা যায় না।”

এ প্রসঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রাথমিক ইতিহাসের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, “তোমাদের একজন বক্তা বলেছেন, দারুল উলুম দেওবন্দ একটি আনার গাছের নিচে একজন শিক্ষক ও একজন ছাত্রকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তাই তোমরা জেনে রাখবে, শিক্ষক ও ছাত্র ছাড়া মাদরাসা কল্পনাই করা যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু বিল্ডিং, ক্লাসরুম কিংবা ঘর থাকলেই মাদরাসা হয় না। মাদরাসার প্রাণ হলো শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। আরব মেহমান শায়খ নূর উদ্দীন সুদানীও তাঁর বক্তব্যে শিক্ষক, ব্যক্তি ও মাদরাসার পারস্পরিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।”

সমাপনী বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আরবী ভাষা শিক্ষার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। একই সঙ্গে আরবী ভাষা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে পুরস্কার গ্রহণ ও বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করার জন্য জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার উস্তাদ মাওলানা আব্দুল কাদের জিলানীকে আহ্বান জানান মুহতামিমে জামিয়া মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। এরপর তিনি তাঁর সমাপনী বক্তব্য শেষ করেন।

আবরী বক্তব্য থেকে অনুবাদ করেছেন জামিয়ার আদব বিভাগের শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কাদির জিলানী

মাদানী/এমডব্লিউ

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন