দাওরা সনদে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে নিয়োগ : যে অনিশ্চয়তার কথা জানালেন ড. ওয়ালিউর রহমান খান
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটে আরবি বিষয়ের শিক্ষক পদে দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) সনদধারীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে আলেমসমাজে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে এ নিয়োগে দাওরা সনদধারীদের জন্য কিছু অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ও শিক্ষাবিদ ড. ওয়ালিউর রহমান খান।
গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঈ.) দুপুরে প্রকাশিত নিয়োগসংক্রান্ত সংবাদে সেনাবাহিনী পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে দাওরায়ে হাদীস সনদের ভিত্তিতে আবেদনের সুযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ড. ওয়ালিউর রহমান খান এসব কথা বলেন। মাদানী টোয়েন্টিফোরে প্রকাশিত নিউজটি একজন পাঠক তার নিজ ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করলে তার কমেন্টে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। কিছু ভালো মানুষের যোগাযোগ ও কথা বলার ফলে এটি হয়েছে।” অর্থাৎ সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টা ও যোগাযোগের ফলে দাওরা সনদধারীদের জন্য এ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সনদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, আবেদনকারীদের মধ্যে যারা বিএ, এমএ বা কামিল সনদ দাখিল করবেন, তাদের এসএসসি/সমমান, এইচএসসি/সমমান এবং ডিগ্রি পর্যায়ের সনদের নম্বর যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত নম্বর পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে শুধু তাকমীল সনদধারীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অতিরিক্ত নম্বর পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
ড. ওয়ালিউর রহমান খান বলেন, “আবেদনকারীদের মধ্যে যারা বিএ, এমএ বা কামিল সনদ দিবে তাদের ১০ম, ১২শ ও ডিগ্রি মানের সনদটির নাম্বার (৩+৩+৩=৯) যোগ হবে, যা তাকমীল সনদধারীদের থাকবে না। এটি একটি পেরেশানি।”
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে সামনে “কোর্ট-কাচারি” হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ফলে শুধু দাওরায়ে হাদীস সনদকে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার নিচের স্তরের সনদগুলোর মানও যথাযথভাবে গ্রহণ করা জরুরি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আরও কোর্ট-কাচারি আছে। তাই কওমী বোর্ডের নিচের সনদসমূহের মান গ্রহণ করা জরুরি।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দাওরায়ে হাদীস সনদধারীদের জন্য সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেন কোনো পক্ষ অযাচিতভাবে পিছিয়ে না পড়ে এবং সব প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হয়—এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদীস সনদধারীদের পাশাপাশি তাদের পূর্ববর্তী শিক্ষাস্তরের সনদগুলোর স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের বিষয়টি স্পষ্ট করা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বি. দ্র. এর আগে গতকাল দুপুরে প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটে আরবি বিষয়ের শিক্ষক পদে দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) সনদধারীদের নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ পদে নির্বাচিত প্রার্থীর বেতন ৩৫ হাজার টাকা।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আরবি বিষয়ে দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীরা এ পদে আবেদন করতে পারবেন। দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) সনদধারীদের জন্য এ সুযোগ কওমি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সনদ মূল্যায়ন ও নম্বর প্রদানের পদ্ধতি আরও স্পষ্ট ও সমতাভিত্তিক করার দাবি জানিয়েছেন আলেমরা।
মন্তব্য (০)