হাইয়াতুল উলয়া ১০ বছরে ৯০ লাখ টাকার মেধাবৃত্তি
হাইয়াতুল উলয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১০ বছরে ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি বিতরণ করেছে। চলতি বছরের দাওরায়ে হাদিসের মেধাবৃত্তির অর্থ বোর্ডে পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে এ শিক্ষাবোর্ডটি।
হাইয়াতুল উলয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৪৪৭ হিজরী/২০২৬ ঈসাব্দের দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত ১৪৮ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মেধাবৃত্তির অর্থ সংশ্লিষ্ট বোর্ডসমূহের কাছে হস্তান্তর করেছে হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। গত ৯ সেপ্টেম্বর এ অর্থ বোর্ডসমূহের কাছে পাঠানো হয়। মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বোর্ড থেকে বৃত্তির অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। তবে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ বোর্ডভুক্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ আহাইআতুল উলয়ার কার্যালয় থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে হবে।
হাইয়াতুল উলয়ার নির্বাচিত ১৪৮ শিক্ষার্থী
চলতি বছর হাইয়াতুল উলয়া মেধাবৃত্তির জন্য নির্বাচিত ১৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২২ জন ছাত্র ও ২৬ জন ছাত্রী রয়েছেন। ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে মোট ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং ছাত্রীদের জন্য ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ থেকে দশম স্থান পর্যন্ত প্রত্যেককে ৭ হাজার টাকা এবং ১১তম স্থান থেকে মেধা তালিকার শেষ পর্যন্ত প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। একই মেধাস্থান অর্জনকারী একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে প্রত্যেকেই ওই স্থানের নির্ধারিত হারে বৃত্তি পাচ্ছেন।
হাইয়াতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মু: অছিউর রহমান
হাইয়াতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মু: অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, কওমি মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ১৪৩৮ হিজরী/২০১৭ ঈসাব্দ থেকে ধারাবাহিকভাবে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ১৪৩৮ থেকে ১৪৪৭ হিজরী পর্যন্ত ১০ বছরে মোট ১ হাজার ৫৭২ শিক্ষার্থীকে ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন...
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৪৩৮ হিজরী/২০১৭ সালে ১৩৯ শিক্ষার্থীকে ৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা, ১৪৩৯ হিজরী/২০১৮ সালে ১২৩ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ১৪৪০ হিজরী/২০১৯ সালে ১৪৩ শিক্ষার্থীকে ৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। ১৪৪১ হিজরী/২০২০ সালে ১৩০ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং ১৪৪২ হিজরী/২০২১ সালে ১৯৬ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।
এরপর ১৪৪৩ হিজরী/২০২২ সালে ১৭২ শিক্ষার্থীকে ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, ১৪৪৪ হিজরী/২০২৩ সালে ১৩৫ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, ১৪৪৫ হিজরী/২০২৪ সালে ১৯৬ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং ১৪৪৬ হিজরী/২০২৫ সালে ১৯০ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৪৪৭ হিজরী/২০২৬ সালে ১৪৮ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
হাইআতুল উলয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৩ হিজরী/২০২২ ঈসাব্দ পর্যন্ত মেধাবৃত্তির অর্থ প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে সরাসরি বিতরণ করা হতো। ১৪৪৪ হিজরী/২০২৩ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট বোর্ডসমূহের কাছে বৃত্তির অর্থ পাঠানো হচ্ছে এবং বোর্ডগুলো মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা বিতরণ করছে। চলতি বছরও একই পদ্ধতিতে বৃত্তির অর্থ বোর্ডসমূহের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ
আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ বোর্ডভুক্ত মাদরাসার মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয় থেকে সরাসরি অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট মাদরাসার মুহতামিম বা নাজিমে তা‘লিমাতের সিল ও স্বাক্ষরসহ আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে।
হাইআতুল উলয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার নিবন্ধন ও পরীক্ষার ফিই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আয়ের উৎস। এ ছাড়া সাময়িক সনদ ও নম্বরপত্রের জন্য যথাক্রমে ২০০ ও ১০০ টাকা ফি নেওয়া হয়; মূল সনদ ও নম্বরপত্রের জন্য কোনো ফি নেই। নিবন্ধন ও পরীক্ষার ফি থেকে পরীক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই আয় থেকেই গত এক দশকে মেধাবৃত্তি বাবদ মোট ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
মাদানী/এমডব্লিউ
মন্তব্য (০)