শাপলা চত্বরের সমাবেশ ছিলো ঈমান-আকিদা রক্ষার আন্দোলন : জুনায়েদ আল হাবিব

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পল্টন জোনের সেমিনার

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে সংগঠিত শাপলা চত্বরের সমাবেশ ছিলো ঈমান-আকিদা রক্ষার আন্দোলন বলে উল্লেখ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি খতিবে বাঙ্গাল মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার সরকারের রক্তচক্ষু ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে ২০১৩ সালের ৫ মে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর ইজ্জত এবং ইসলামের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে তৌহিদী জনতা শাপলা চত্বরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হয়েছিলেন। শাপলা চত্বরের সেই সমাবেশ ঈমান-আকিদা ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাদ এশা রাজধানীর পুরানা পল্টনে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. মিলনায়তনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর পল্টন জোনের পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন...

পল্টন জোনের সভাপতি শাইখুল হাদিস মুফতি সালাহ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর পরিচালনায় এ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহকারী মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মুফতি শরীফুল্লাহ, অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান, মাওলানা সানাউল্লাহ খান, মুফতি জুবায়ের রশিদ, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান, মাওলানা এহতেশামুল হক সাখী, মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা মুহিবুর রহমান, মুফতি বশীর আহমদ, মুফতি জুবায়ের আহমদ, মাওলানা আবু ইউসুফ, মাওলানা হোসাইন আকন্দ, মাওলানা আব্দুল বাসেত শামীম ও মাওলানা মামুন চৌধুরীসহ অনেকে।

মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম তৌহিদী জনতার একটি অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হেফাজতে ইসলাম ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে আসছে।

তিনি বলেন, সংগঠনটি কোনো দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে নয়; বরং ইসলামের মৌলিক আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মুসলমানদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে হেফাজতে ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময়ও দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গেলে হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা ও তৎকালীন ঘটনাপ্রবাহকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি সালাহ উদ্দিন বলেন, হেফাজতে ইসলামকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা সঠিক নয়। সংগঠনটি তার স্বকীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে কাজ করে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আলেম-উলামা, মাদরাসা, মসজিদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মর্যাদা রক্ষায় হেফাজতে ইসলাম তার দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

পরামর্শ সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ পল্টন জোনের নেতৃবৃন্দ দেশের সর্বস্তরের মুসলিম জনগণকে ঈমান-আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, শান্তি, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দের দিকনির্দেশনা মেনে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

মাদানী/এমডব্লিউ

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন