ভিসা-টিকিট হলেও ওমরাহ যাওয়া হলো না সেকান্দর বেপারীর

ভিসা-টিকিট হলেও ওমরাহ যাওয়া হলো না সেকান্দর বেপারীর

।। নাজিবুল্লাহ মুহাম্মদ ।।

রাতেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল সেকান্দর বেপারীর। ভিসা হয়ে গিয়েছিল, টিকিটের প্রস্তুতিও সম্পন্ন। শুধু ভিসা-টিকিট প্রিন্ট করে হাতে নেওয়ার অপেক্ষা। কিন্তু বায়তুল্লাহর পথে যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগেই থেমে গেল তাঁর দুনিয়ার সফর।

জানা গেছে, আগামীকাল রাতে স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন সেকান্দর বেপারী। আজ সকাল থেকেই ভিসার জন্য বারবার যোগাযোগ করছিলেন তিনি। আগামীকাল ঢাকায় এসে ভিসা-টিকিট প্রিন্ট করার কথা থাকায় সকাল সকাল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার জন্য ব্যস্ত ছিলেন।

অবশেষে তাঁর ভিসাও হয়ে আসে। সৌদি আরবের ই-ভিসায় দেখা যায়, সেকান্দর বেপারীর নামে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। ভিসায় তাঁর জন্মতারিখ ৬ এপ্রিল ১৯৫২ এবং থাকার মেয়াদ ৯০ দিন উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ভিসা হাতে আসার পরও সেই ভিসা নিয়ে আর সৌদি আরব যাওয়া হলো না তাঁর।

মাত্র আধা ঘণ্টা

মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল সবকিছু। আজ সকালে অটো থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন সেকান্দর বেপারী। দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু চিকিৎসা নেওয়ার আগেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান না-ফেরার দেশে।

যে মানুষটি কিছুক্ষণ আগেও ওমরাহর ভিসার জন্য ব্যস্ত ছিলেন, যাঁর চোখে ছিল বায়তুল্লাহ দেখার স্বপ্ন—মুহূর্তের ব্যবধানে তাঁর জীবনের সব আয়োজন থেমে গেল। ভিসা হলো, টিকিটের প্রস্তুতি হলো—কিন্তু ওমরাহ যাওয়া হলো না।

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র মক্কায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। বায়তুল্লাহ শরিফ তাওয়াফ করার কথা ছিল। মদিনায় গিয়ে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের আকাঙ্ক্ষাও ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বরং বায়তুল্লাহর পথে যাওয়ার আগেই তিনি চলে গেলেন তাঁর রবের কাছে।

মানুষ আগামীকালের পরিকল্পনা করে, কিন্তু আগামীকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা কারও নেই। সেকান্দর বেপারীর ঘটনাটি যেন সেই চিরন্তন সত্যেরই এক হৃদয়বিদারক স্মরণ—মানুষের গন্তব্য কখনো কখনো বদলে যায়, অথচ আল্লাহর নির্ধারিত সময় এক মুহূর্তও এদিক-সেদিক হয় না।

তাঁর ওমরাহর নিয়ত ছিল, ভিসা হয়েছিল এবং সফরের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর নিয়ত আল্লাহর কাছে কী মর্যাদা পেয়েছে, তার চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই। তবে আমরা তাঁর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী এবং দোয়া করি—আল্লাহ তাআলা সেকান্দর বেপারীর ওমরাহর নিয়ত কবুল করুন, তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

হয়তো সেকান্দর বেপারী বায়তুল্লাহর মেহমান হতে পারেননি, কিন্তু তিনি এখন তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী এক বান্দা। তাঁর রেখে যাওয়া ভিসার কাগজটি হয়তো তাঁর অপূর্ণ স্বপ্নের স্মৃতি হয়ে থাকবে স্বজনদের কাছে। ভিসা-টিকিট রয়ে গেল, রয়ে গেল ওমরাহর স্বপ্ন—শুধু সেকান্দর বেপারী আর রইলেন না।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাআলা মরহুম সেকান্দর বেপারীকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন, ওমরাহর নিয়ত কবুল করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সবরে জামীল দান করুন। আমিন।

মাদানী/এমডিব্লউ

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন