সম্পত্তি হস্তান্তর বিল ২০২৬ বাতিলের দাবি আল-হাইআতুল উলয়ার

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল ২০২৬ বাতিলের দাবি আল-হাইআতুল উলয়ার

নিজস্ব প্রতিনিধি : হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির ভোগ, দখল ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে করা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ২০২৬-এর সংশোধনী বাতিলের দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষ কওমি মাদরাসা শিক্ষা অথরিটি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশোধিত বিধানে স্থাবর সম্পত্তি হেবা বা দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ, ব্যবহার ও দখলের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধান ইসলামি শরিয়াহর হেবা সংক্রান্ত মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে সংস্থাটি।

সভায় জানানো হয়, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদি ও নাতি-নাতনি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে দাতার ভোগদখলের অধিকার নিবন্ধিত দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার কথাও সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে।

আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির অভিমত, ইসলামি শরিয়াহতে হেবা একটি স্বতন্ত্র সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি। হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর সম্পত্তির মালিকানা, দখল ও সংশ্লিষ্ট অধিকার শরিয়াহর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী কার্যকর হয়।

সভায় আরও বলা হয়, হেবা ও মিরাস এক বিষয় নয়। হেবা হলো ব্যক্তির জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পদ্ধতি। অন্যদিকে মিরাস কার্যকর হয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর এবং তখন তার সম্পত্তি শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হয়। ফলে এ দুই ব্যবস্থার মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এমন কোনো আইনগত কাঠামো তৈরি না করার পক্ষে মত দেয় স্থায়ী কমিটি।

সভায় আলেম-উলামা ও ইসলামি আইনজ্ঞদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সংশোধনীর বিষয়ে উত্থাপিত শরঈ আপত্তিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আলোচনার পর স্থায়ী কমিটি সংশোধিত বিধানকে শরিয়াহবিরোধী হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনটি পুনর্বিবেচনা ও বাতিলের দাবি জানায়।

একই সঙ্গে মুসলমানদের হেবা, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশের আলেম-উলামা ও ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আল-হাইআতুল উলয়া আশা প্রকাশ করে, সরকার সংশোধিত আইনের শরঈ ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় বিধান পালনের অধিকার এবং পারিবারিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করা হবে।

সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানসহ সংস্থাটির স্থায়ী কমিটির অন্তর্ভুক্ত শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুফতিদের একটি বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠান সংস্থাটির অফিস ব্যবস্থাপক মুঃ অছিউর রহমান।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন