বারিধারায় ড. কামাল আল খলিফা—‘তোমরাই আরবি ভাষাকে জীবন্ত রেখেছো’

বারিধারায় ড. কামাল আল খলিফা—‘তোমরাই আরবি ভাষাকে জীবন্ত রেখেছো’

আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত আরবি ভাষার উপস্থাপনায় বারিধারায় ড. কামাল আল খলিফা মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। আরব মেহমান ড. কামাল আল খলিফা। তিনি বলেন, ‘তোমরাই আরবি ভাষাকে জীবন্ত রেখেছো।’

গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঈ.) জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার আল কাসিম মিলনায়তনে আয়োজিত আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

বারিধারায় ড. কামাল আল খলিফা

ড. কামাল আল খলিফা বলেন, আরবি ভাষাকে জীবন্ত ও সমৃদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে অনারবদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘তোমাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে সিবাওয়াই, আখফাশসহ অনেকেই অনারব হয়েও আরবি ভাষায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। তারা নাহু-সরফের বড় বড় পণ্ডিত ছিলেন। একইভাবে হাদিসের ক্ষেত্রেও ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিমসহ বহু হাদিস বিশারদ অনারব হয়েও হাদিসশাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘কোরআন আরবদের ওপর নাজিল হয়েছে; কিন্তু ইলমের বিস্তার ও সংরক্ষণে অধিকাংশ অবদান এসেছে অনারবদের মাধ্যমে।’

‘যেন আমি আরব দেশের মধ্যে আছি’—আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শায়খ নূর উদ্দীন সুদানী

আরবি ভাষার বিশুদ্ধতা প্রসঙ্গে ড. কামাল আল খলিফা বলেন, কোরআন মাজিদ আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে। সে সময় আরবদের মধ্যে বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল আরবি ভাষার প্রচলন ছিল। বিশেষ করে মরু ও গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষের ভাষা ছিল অধিকতর বিশুদ্ধ। শহরাঞ্চলে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের আগমন ও বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণের কারণে ভাষায় পরিবর্তন আসত। এ কারণে বিশুদ্ধ আরবি ভাষা সংরক্ষণে গ্রামীণ আরবদের ভাষার বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

ড. কামাল আল খলিফা আরবি ভাষার সৌন্দর্য তুলে ধরে বলেন,

আরবি ভাষার সৌন্দর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সাহিত্যিক সৌন্দর্য ও কাব্যিক বৈচিত্র্য। কবিতার ছন্দ, শব্দের সৌন্দর্য, গজল, মাদহসহ বিভিন্ন সাহিত্যিক রীতিতে আরবি ভাষা সমৃদ্ধ। প্রাচীন আরবরা তাদের বিখ্যাত কবিতাগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দিতেন। মু‘আল্লাকাত বা ঝুলন্ত গীতিকাগুলোকে ঘিরেও আরবদের মধ্যে বিশেষ খ্যাতি ছিল।

তিনি বলেন, আরবি ভাষার এই সাহিত্যিক শক্তি ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেই কোরআন মাজিদ নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা কোরআনের মাধ্যমে আরবদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। কিন্তু তারা কোরআনের ভাষাগত সৌন্দর্য ও অলৌকিকতার মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়নি।

আরবি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে মাদরাসা ও ব্যক্তির ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. কামাল আল খলিফা বলেন, মাদরাসা যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ও শিক্ষকের ভূমিকারও কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বোর্ড, চেয়ার-টেবিল, কারিকুলাম ও সিলেবাসসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রয়োজন। তবে এসব উপকরণের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক, শিক্ষকের অভিজ্ঞতা, নির্দেশনা এবং শিক্ষকের অনুসরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, ‘মাদরাসা ও ব্যক্তি—দুটিরই সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আরবি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে ব্যক্তির ভূমিকা ও মাদরাসার ভূমিকা একে অপরের জন্য অপরিহার্য ও পরিপূরক।’

মনোযোগী হওয়ার আহ্বান

আরবি ভাষা শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল আল খলিফা বলেন, নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষকের নির্দেশনা অনুসরণ এবং ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসাই আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

আরবি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জামিয়ার শিক্ষার্থীদের সাবলীল ও প্রাণবন্ত আরবি উপস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি তাদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরবি ভাষার চর্চা আরও ব্যাপকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আরবী বক্তব্য থেকে অনুবাদ করেছেন মাওলানা আব্দুল কাদির জিলানী ।।

মাদানী/এমডিব্লউ

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন