ইসলামী মূল্যবোধ উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যাবে না : জমিয়ত
নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী মূল্যবোধ উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ। এ দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, পবিত্র কুরআন-সুন্নাহর প্রতি শ্রদ্ধা এবং ইসলামী মূল্যবোধকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ধর্মীয় ও মর্যাদাপূর্ণ কোনো আয়োজনে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নিয়মিত মাসিক বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
বিশ্বজয়ী হাফেজে কুরআনদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’ (Nexus) বই উপহার হিসেবে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। একই সঙ্গে সংবিধান প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জমিয়ত নেতৃবৃন্দ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলম কাসেমমীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি নুরুল আলম ইসহাকীর পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন...
নেতৃবৃন্দ বলেন, পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা প্রদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু এমন একটি ধর্মীয় ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য সমালোচিত একজন লেখকের বই উপহার হিসেবে প্রদান অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। এতে অনুষ্ঠানের ধর্মীয় আবহ ও উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তারা আরও বলেন, সংবিধান ও ধর্মীয় বিষয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বশীল, পরিমিত ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কোনো বক্তব্যে জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত।
জমিয়ত নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
বিশেষ করে কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের মতো পবিত্র আয়োজনে আয়োজকদের আরও বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংবিধান ও ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বশীল ও পরিমিত বক্তব্য প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা সলীমুল্লাহ, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি হাসান আহমদ, মাওলানা বিন ইয়ামিন, মুফতি মামুনুর রশিদ, মাওলানা আনোয়ার হামিদী, মাওলানা বোরহান উদ্দিন, মাওলানা জুবায়ের আহমাদ, মাওলানা মুবাশ্বির আহমদ, মাওলানা রেজাউল করিম দরবস্তী, মাওলানা গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মাদানী/এমডব্লিউ
মন্তব্য (০)